মেসির সঙ্গে ছবি তুলবেন, বলার সাহস পাননি ১৯ বছর বয়সী ফ্লোরেস
স্পোর্টস ডেস্ক: আর্জেন্টিনার জার্সিতে অভিষেক, বোকা জুনিয়র্সের হয়ে জোড়া গোল, এরপর মেসির বিদায়ী ম্যাচে তার কাছ থেকে পাওয়া দুটি গোলের সুযোগ, মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ১৯ বছর বয়সী লিওনেল ফ্লোরেসের ক্যারিয়ারে ঘটে গেল অবিশ্বাস্য সব ঘটনা। মেসির সঙ্গে একই মাঠে খেলাটাকেই অবশ্য সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখছেন তরুণ এই আর্জেন্টাইন।
গত বুধবার বলিভিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার হয়ে অভিষেক হয় ফ্লোরেসের। এরপর শুক্রবার বোকা জুনিয়র্সের হয়ে উনিয়নের বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানের জয়ে করেন নিজের প্রথম জোড়া গোল। এর ২৪ ঘণ্টারও কম সময় পর বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন তিনি। আর মঙ্গলবার বেনিনের বিপক্ষে খেলেন মেসির জাতীয় দল থেকে বিদায়ী ম্যাচে।
বেনিনের বিপক্ষে ৭৮ মিনিটে লাওতারো মার্তিনেজের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন ফ্লোরেস। বাঁ প্রান্তে খেলতে নেমে বল পায়ে বেশ সক্রিয় ছিলেন তিনি। আর মাত্র ১৫ মিনিটেই মেসির কাছ থেকে পান দুটি দারুণ সুযোগ।
প্রথমবার মেসির পাস পেয়ে ডান পায়ের ভেতরের অংশ দিয়ে শট নেন ফ্লোরেস। তবে তার প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন বেনিনের গোলরক্ষক আলাগবে। দ্বিতীয় সুযোগটিও আসে মেসির পাস থেকেই। কিন্তু গোল করার মুহূর্তে কিছুটা দ্বিধায় পড়ে যান তরুণ ফরোয়ার্ড; শেষ পর্যন্ত তার শট ব্লক হয়ে যায়।
দুটি সুযোগই কাজে লাগাতে না পারায় মেসির কাছ থেকেও আসে ছোট্ট তাগাদা। প্রথমবার পাস দেওয়ার পর মেসি তাকে ফিরতি বল চেয়েছিলেন। আর দ্বিতীয়বার ফ্লোরেস গোল করতে দেরি করলে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক তাকে বলেন, ‘গোলটা করো।’
ম্যাচ শেষে সেই কথাকেই বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন ফ্লোরেস। তার ভাষায়, ‘সে যা বলে, সবকিছুই আমাদের গুরুত্ব দিয়ে নিতে হবে।’
মেসির সঙ্গে মাঠ ভাগ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি বোকা তারকা। তিনি বলেন, ‘আমি তাকে সবকিছুর ওপরে রাখি। আমার জন্য দিনটি অবিস্মরণীয়। তার বিদায়ী ম্যাচে থাকতে পারা, তার শেষ ম্যাচে খেলতে পারা এটা আমার জন্য বিশেষ এক সম্মান। আমি তাকে সত্যিই হৃদয়ে ধারণ করে রাখব।’
মজার ব্যাপার, মেসির সঙ্গে ছবি তোলার সাহসও পাননি ফ্লোরেস। তবে নিজের জার্সিতে পেয়েছেন কিংবদন্তির স্বাক্ষর। ‘আমি তাকে ছবি তুলতে বলার সাহস করিনি। শুধু তার কাছে একটি জার্সিতে সই নিয়েছি। তিনি অনেক বড় মাপের মানুষ। সর্বকালের সেরা এবং একই সঙ্গে অসাধারণ একজন ভালো মানুষ,’ বলেন ফ্লোরেস।
এই আন্তর্জাতিক বিরতিতে আর্জেন্টিনার নতুন প্রজন্মের অন্যতম আলোচিত নাম হয়ে উঠেছেন তিনি। অন্য অনেক নতুন মুখ যেখানে সীমিত সুযোগ পেয়েছেন, সেখানে বলিভিয়া, বুরকিনা ফাসো ও বেনিন, তিন ম্যাচেই মাঠে নেমেছেন ফ্লোরেস।
মাত্র ১৯ বছর বয়সেই এমন একটি সপ্তাহ কাটানোর পর এখন বোকা জুনিয়র্সের হয়ে শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখছেন ফ্লোরেস। একই সঙ্গে মেসি-পরবর্তী আর্জেন্টিনা দলে নিজেকে আরও প্রতিষ্ঠিত করার পথেও এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি।