মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলায় দণ্ডিত সাবেক সেনার ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ডে ট্রাম্পের অনুমোদন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটিতে গুলি চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যার দায়ে দণ্ডিত সাবেক মার্কিন সেনা মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিদাল হাসানের ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুমোদন দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার পেন্টাগন এ তথ্য জানিয়েছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
টেক্সাসের ফোর্ট হুডে ওই হামলায় আরও ২০ জনের বেশি মানুষ আহত হন। হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে এটি হবে ১৯৬১ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে প্রথম ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর।
পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সুপারিশ করার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দণ্ডিত ‘সন্ত্রাসী’ নিদাল মালিক হাসানের ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুমোদন দিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, কখন এবং কোথায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে, তা নির্ধারণ করবেন সেনাবাহিনীর সচিব।
২০১৩ সালে ফোর্ট হুডে আল-কায়েদার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে চালানো ওই বন্দুক হামলার জন্য সামরিক আদালতের জুরি হাসানকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
বিচারের সময় হাসান নিজেই নিজের পক্ষে আইনি লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে তিনি কোনো সাক্ষী হাজির করেননি, নিজেও সাক্ষ্য দেননি এবং তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করার কোনো চেষ্টা করেননি। আদালত নিযুক্ত তাঁর আইনজীবীরা আশঙ্কা করেছিলেন, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই মৃত্যুদণ্ড পেতে চাইছেন।
সামরিক ঘাঁটিতে বন্দুক হামলা তুলনামূলক বিরল
যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মুসলিম হাসান ২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর টেক্সাসের বিশাল ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটির একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে গুলি চালান। ওই ঘাঁটি থেকে ইরাক ও আফগানিস্তানে যুদ্ধ করতে মার্কিন সেনাদের পাঠানো হতো।
নিহত ১৩ জনের মধ্যে ১২ জন এবং আহত ৩০ জনই ছিলেন সেনাসদস্য। হামলার জবাব দিতে আসা একজন বেসামরিক পুলিশ কর্মকর্তা হাসানকে গুলি করে আহত করেন। এতে তিনি আংশিকভাবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হন।
হাসানের বিচার চলাকালে আদালতকে জানানো হয়, ইরাক ও আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ও দখলনীতির বিরোধিতা করতেন তিনি।
এ ছাড়া তিনি অনলাইনে আল-কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে পরিচিত উগ্রপন্থী ধর্মীয় বক্তা আনোয়ার আল-আওলাকির সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন বলেও আদালতকে জানানো হয়। মার্কিন নাগরিক আওলাকি পরে ইয়েমেনে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলায় নিহত হন।
যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক বন্দুক হামনা সাধারণ ঘটনা হলেও সামরিক স্থাপনায় এ ধরনের হামলা তুলনামূলকভাবে বিরল।
২০২৫ সালে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে এক সেনাসদস্য গুলি চালিয়ে পাঁচ সহকর্মীকে আহত করেন। পরে তাঁকে কাবু করে আটক করা হয়।
২০১৯ সালে হাওয়াইয়ের একটি সামরিক ঘাঁটিতে এক মার্কিন নৌসেনা গুলি চালিয়ে দুজনকে হত্যা ও একজনকে আহত করেন। একই বছর ফ্লোরিডার একটি সামরিক স্থাপনায় সৌদি আরবের এক সামরিক প্রশিক্ষণার্থী তিনজনকে গুলি করে হত্যা করেন।
২০১৫ সালে কুয়েতি বংশোদ্ভূত এক মার্কিন নাগরিক টেনেসি অঙ্গরাজ্যের দুটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে চারজন মেরিন সেনা ও একজন নাবিককে হত্যা করেন। এফবিআই পরে জানায়, ওই হামলাকারী একটি ‘বিদেশি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর’ আদর্শে অনুপ্রাণিত ছিল।
এর দুই বছর আগে, ২০১৩ সালে, যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে অবস্থিত নেভি ইয়ার্ডে এক ব্যক্তি গুলি চালিয়ে ১২ জনকে হত্যা এবং আটজনকে আহত করেন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে তিনি নিহত হন।